একদল সাংবাদিক, তাঁদের সঙ্গে কিছু অর্থনীতিবিদ, ডাক্তার, পরিবেশপ্রেমী, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী এবং সমাজের অন্যান্য স্তরের মানুষ অনেক আলোচনার পর একদিন একটা কাগজের কথা ভাবলেন।
এঁদের কারও কারও সঙ্গে রাজনীতির যোগ আছে, কারও ছিল আর কারও কোনও দিনই নেই। কিন্তু সকলেই সাংবাদিকতার নীতিকে আঁকড়ে। কোনও রাজনীতির রঙের কাছে মাথা নত না করে, কাগজ করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
নামটা বেছে নেওয়া হল ‘জনস্বার্থ বার্তা’। সেই শুরুর দিনের যাত্রায় সাথী ছিলেন ওয়ার্ধার ইন্সটিটিউট অফ গান্ধিয়ান স্টাডিজ এবং বিদ্যাসাগর বিশ্বাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা প্রাক্তন বিধায়ক সন্দীপ দাস। সঙ্গে ছিলে বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য দিলীপ সিংহ, মাদ্রাজের একটি ইন্সটিট্যুটের অর্থনীতির প্রাক্তন প্রধান সরজিত মজুমদার, বাংলার গান্ধী সতীশ দাশগুপ্তের ভাইপো বিশিষ্ট সাংবাদিক বরুণ দাশগুপ্ত, বিশিষ্ট সাংবাদিক শঙ্কর রায়-সহ অনেকেই।
দেশ এখন এক উল্টোপাল্টা পরিবর্তনের ধারায় চলেছে। আমাদের চারপাশেই অতি দ্রুত নানা বদলের ঘটনা ঘটছে – ঘটছে রাজনীতিতে, অর্থনীতিতে, সামাজিক ক্ষেত্রে, বিজ্ঞান ও পরিবেশে। রাজনৈতিক মতাদর্শ ও সামাজিক বিষয়, উন্নয়নের মডেল ও তার বর্তমান-ভবিষ্যৎ, দেশের মানুষের উপর তার প্রভাব – সব কিছুই এই পত্রিকায় জোর গলায় বলা যাবে। বিতর্কে আসবে।
সংবাদ মাধ্যমের অধিকাশই এখন কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে। তাদের কথা মাথায় রেখেই পরিবেশিত হয় সংবাদ ও সেই সম্পর্কের আলোচনাগুলি। বিরুদ্ধ ভাবনা বা মতামত প্রকাশের পথ প্রায় রুদ্ধ। অন্য মতের সংবাদ সংগ্রহের দরজাটাই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রেক্ষিতেই সংবাদ ও মতামত-ভিত্তিক একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত। করোনার ধাক্কায় আর্থিক সঙ্কট বেড়েছে। ছাপা পত্রিকার বদলে পিডিএফ আকারে প্রচারিত হচ্ছিল। পাঠকদের সুবিধার জন্য ও্যেবসাইটে আসার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল দীর্ঘ দিন। আমাদের যেহেতু বাণিজ্যিক কোনও সমর্থন ছাড়াই চলতে হয়, তাই পাঠকদের উদার হস্তই আমাদের ভরসা। পত্রিকার সাইট ও ফেসবুক পাতা হয়ে উঠুক প্রকাশ্যে খোলাখুলি মতপ্রকাশের, আলোচনার ও বিতর্কের মঞ্চ। সাধারণের মতামত আসুক।
তিনটি বিষয়ে আমাদের মতামত দৃঢ় ও অনড়।
ক) সাংবাদিকতার নীতি ।
খ) সমস্ত রকমের সাম্প্রদায়িকতার ও সন্ত্রাসের আমরা বিরোধী।
গ) বিশ্বের যে কোনও স্থানে শোষণ-বঞ্চনা-নিপীড়নের বিরুদ্ধে আমরা সাধারণ মানুষের পাশে, সমষ্ঠিভিত্তিক সমাজের পক্ষে।
আমরা জানি, যে কথা আমরা বলছি, তা অত্যন্ত কঠিন এবং তাকে সফল করার মতো ক্ষমতা আমাদের এই ক’জনের নেই। কিন্তু সেই ক্ষমতা আছে আমাদের সকলের – মানে আমাদের চারপাশে ও দূরে থাকা সব বন্ধুদের। তাঁদের সক্রিয় সহযোগিতা, ব্যক্তিগত সংযোগ ও অংশগ্রহণেই আমাদের পক্ষে জনস্বার্থ বার্তা-র লক্ষ্যপূরণে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
ঠিকানা – ৫৬/৫ এম এন সেন লেন, কলকাতা ৭০০ ০৪০
সম্পাদক – হিমাংশু হালদার, কার্যনির্বাহী সম্পাদক – চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য
যোগাযোগ – ৮৬৯৭৪-৪৯৬২২, ৯৪৩৩৭-২৫৩৮১
e-mail : janaswartha@gmail.com